‘অর্থের বিনিময়ে’ এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা লিখে দিচ্ছিলেন শিক্ষকরা

: কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 8 hours ago

27

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষা চলাকালে হলের বাইরে থেকে খাতা লিখে দেওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষককে আটক করেছে র‍্যাব। একই ঘটনায় অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপরাধে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চলমান দাখিল পরীক্ষার জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর নাম মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। জানা গেছে, নাসিরুল্লাহ ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে। অন্যদিকে র‍্যাবের হাতে আটক তিন শিক্ষকও একই মাদ্রাসার কর্মরত শিক্ষক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আটককৃত শিক্ষকরা হলেন- মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) ও মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। তবে তারা সংশ্লিষ্ট চুয়ামল্লিকপাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক ছিলেন না বলে জানা গেছে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অত্যন্ত গোপনে পরীক্ষার্থীর খাতা লিখে এনে হলের ভেতরে জমা দেওয়ার সময় র‍্যাবের একটি আভিযানিক দল তাদের হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র এ ধরনের অনিয়ম করে আসছিল। বুধবারও একই কৌশলে খাতা লিখে দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর পরই আটক শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তদবির ও চেষ্টা শুরু করেন। এ সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বহিরাগতদের উপস্থিতিতে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আটককৃত শিক্ষকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, তারা স্বেচ্ছায় এই কাজ করেননি। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের ভালো ফলাফলের জন্য তাদের এই অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেছেন।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্টের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার বাড়িতে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী প্রদীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্তে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থেকে খাতা লিখে এনে ভেতরে জমা দেওয়ার জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে। র‍্যাবের হাতে তিন শিক্ষকের আটক হওয়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে আটককৃত শিক্ষকরা র‍্যাব হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com