আইপিএলের ‘এল ক্ল্যাসিকো’ মানেই আগুনে লড়াই। কিন্তু সেই ম্যাচেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ১৩ জন ক্রিকেটারকে মাঠে নামাল হার্দিক পাণ্ডিয়ার দল। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে! তারপরও অবশ্য সুবিধা করতে পারেনি তারা। চেন্নাইয়ের কাছে ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
ঠিক কী হয়েছে? চেন্নাই ম্যাচে ১৩ জন ক্রিকেটার ব্যবহার করেছে মুম্বাই। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে মোহম্মদ গজনফরের বদলে নামেন দানিশ মালেওয়ার। ফিল্ডিং করতে গিয়ে একটি ক্যাচ ধরার সময় চোট পান মিচেল স্যান্টনার। তবে তার আগেই নিজের নির্ধারিত চার ওভার সম্পূর্ণ করে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর কনকাশন পরিবর্তন হিসেবে ব্যাট করতে নামেন শার্দূল ঠাকুর।
এরপরই শুরু হয় বিতর্ক। কারণ স্যান্টনারের চোট। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিউই তারকার চোট মাথায় নয়, বরং কাঁধে লেগেছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্যান্টনারের কাঁধের হাড় সরে গেছে। সেই পরিস্থিতিতে কনকাশন বদলির অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কনকাশন সাব একজন পূর্ণাঙ্গ বদলি হিসাবে খেলতে পারেন, ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই। কিন্তু এই ম্যাচে কনকাশন সাব এবং ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় দুই নিয়ম একসঙ্গে প্রয়োগ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
এই দুই আলাদা নিয়ম প্রয়োগের ফলেই দলে ১৩ জনকে ব্যবহার করে বসে মুম্বাই। ম্যাচেও দেখা যায়, মুম্বাইয়ের হয়ে মোট ১৩ জন ক্রিকেটারই কোনও না কোনওভাবে অবদান রেখেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, একটি দল একদিকে যেমন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার ব্যবহার করতে পারে, তেমনই প্রকৃত কনকাশন সাবের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বদলির সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনও দল প্রয়োজন অনুযায়ী একজন কনকাশন সাবস্টিটিউট খেলোয়াড় নামানোর অনুমতি পায়। কিন্তু স্যান্টনারের চোট কাঁধে লাগায় তাদের ‘ফেয়ার প্লে’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও ম্যাচের পর জয়াবর্ধনে দাবি করেন কোনও নিয়মভঙ্গ করা হয়নি। মুম্বাই কোচ বলেন, ‘স্যান্টনারের কাঁধে লেগেছে এটা ঠিক। তবে প্রথমে মাথায় ও গলায় আঘাত পেয়েছিল ও। ড্রেসিংরুমে ফিরে আসার পরেও ওর মাথা ঘুরছিল। ওকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এটা ঠিক ওর কাঁধে বরফ দেওয়া হচ্ছিল। তবে ও স্বস্তি বোধ করছিল না। সেই কারণে ওকে স্ক্যান করানোর জন্য পাঠানো হয়।’
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়