
এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে একেবারেই ছন্দহীন দেখা যাচ্ছে আধুনিক ক্রিকেটের সেরা পেসারদের একজন জসপ্রিত বুমরাহকে। ৮ ম্যাচে তার শিকার মাত্র ২ উইকেট, আর বোলিং গড় দাঁড়িয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো ১৩২। টুর্নামেন্টে অন্তত ৩০ ওভার বল করেছেন, এমন বোলারদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বাজে পরিসংখ্যান।
টুর্নামেন্টের শুরুটা ছিল আরও হতাশাজনক। প্রথম পাঁচ ম্যাচে তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। কলকাতা নাইট রাইডার্স, দিল্লি ক্যাপিটালস, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও পাঞ্জাব কিংস— কোনো দলের বিপক্ষেই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। অবশেষে ষষ্ঠ ম্যাচে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে সাই সুদর্শনকে আউট করে উইকেটের খাতা খোলেন।
এই পারফরম্যান্স তার সাম্প্রতিক সাফল্যের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। গত আসরে চোট কাটিয়ে ফিরে মাত্র ১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন বুমরা, ইকোনমি রেটও ছিল দারুণ ৬.৬৮। এমনকি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতেও বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তবে এবার শুধু পরিসংখ্যানই নয়, বদলে গেছে তার ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর’ও। এক সময় ব্যাটসম্যানরা তাকে দেখেশুনে খেলতেন, কিন্তু এখন তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক। তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী তার এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এমনকি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে বেশ চাপে পড়েন তিনি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ছন্দপতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সাবেক ভারত অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত মনে করেন, দীর্ঘ ব্যস্ত সূচির কারণে বুমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আইপিএলের আগে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ও ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজ মিলিয়ে প্রচুর বোলিং করতে হয়েছে তাকে। ইংল্যান্ডেই তিন ম্যাচে করেছেন ১১৯ ওভার।
অন্যদিকে রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলছেন, মানসিক চাপও বড় কারণ। দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের টানা হার (৮ ম্যাচে ৬ হার) এবং নিজের উইকেটখরার সমালোচনা তার আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ আবার দীর্ঘদিনের পিঠের সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন।
তবে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ড বিষয়টিকে এতটা গুরুতরভাবে দেখছেন না। তার মতে, এটি কেবল একটি সাময়িক খারাপ সময়।