আজ নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিষু ও বিজু উৎসব শুরু

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 7 hours ago

26

পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘বিষু’ উৎসব। একই সঙ্গে চাকমা সম্প্রদায়ের ‘বিজু’ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ভোরে রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন সাঙ্গু নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে শত শত পাহাড়ি তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর ও নানা বয়সী নারী-পুরুষ জড়ো হন। সবার মঙ্গল কামনায় কলাপাতায় সাজিয়ে গঙ্গাদেবীর পূজা অর্চনার পর নদীতে ফুল ভাসান তারা।

সূর্যোদয়ের আগেই সাঙ্গুর তীর মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের কোলাহলে। ফুল ভাসাতে আসা সুপ্রিয়া তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, নতুন পোশাক পরে সাঙ্গু নদীতে এসেছি। গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেছি— যেন নতুন বছরটি সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে।

বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিরণ তঞ্চঙ্গ্যা জানায়, ফুল ভাসানোর পাশাপাশি বিকেলের ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’ ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামীকাল পালিত হবে ‘মূল বিজু’। এই দিনে প্রতিটি ঘরে ঘরে ২০ থেকে ৩০ ধরনের দেশি সবজি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’। কাঁচা কাঁঠাল, মটর, ছোলা, বুনো আলু, চিংড়ি, শিমের বিচি, কচি বেত ও বাঁশ কোড়লসহ নানা পদের সবজি মিশিয়ে তৈরি করা এই খাবার পরিবেশন করা হয় অতিথি ও স্বজনদের। এছাড়া দিনব্যাপী পিঠা-পুলি ও নানা পদের খাবার খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়েই উৎসবের শুভসূচনা হয়েছে। রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতে ঘরের দরজায় আম, জাম ও নিমপাতা ঝোলানোর পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এই উৎসব ফুলবিষু, মূলবিষু ও নববর্ষ— এই তিন ধাপে উদযাপিত হয়। একই সময়ে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসব ঘিরেও পাহাড়ে এখন সাজ সাজ রব।