আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০

: ফরিদপুর ভাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 3 hours ago

6

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে ওই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের লোকজন নেতৃত্ব দেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদে মারধর করা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে খাপুরাসহ অন্য তিনটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মনসুরাবাদ বাজারে হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং চার-পাঁচটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

খাপুরা গ্রামের দলনেতা সাদু মাতুব্বর জানান, আমরা ৩ গ্রাম দুর্বল হওয়াতে সব সময় বড়গ্রাম মুনসুরাবাদ আমাদেরকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়েই মারধর করে। এক সপ্তাহ আগে আমাদের গ্রামের একটি টুটুল নামের এক ছেলের তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টি জেনে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। তাতেও তাদের আক্রোশ কমে নাই। তারা আমাদের ৩ জন কিশোরকে অনেক মারপিট করেছে। তারপরে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আমাদের গ্রামের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, মনসুরাবাদ গ্রামের দলনেতা বাবর আলী মেম্বার বলেন, আমি মারামারির সময় ছিলাম না, শুনেছি দুই গ্রামের ছেলরা মারামারি করেছে। পরে কয়েক গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়ে। বাকি ঘটনা না জেনে বলতে পারবো না।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মনসুরাবাদ গ্রামের ১৫ জন এবং বাকি তিন গ্রামের ১৫ জন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।