আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় স্থির রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা একদিকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার প্রভাব বিবেচনা করছেন, অন্যদিকে ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সোমবার সকালে ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৭.৭৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় খুব সামান্য বেশি। একই সময়ে ইউএস ডব্লিউটিআই ছিল প্রতি ব্যারেল ৬২.৯১ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির কারণে সোমবার ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি।
গত সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে আগামী এক মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। এই মন্তব্য বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং দাম কমে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা করবে। তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধান এবং নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। ইরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, খনি খাত ও বিমান কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।
এদিকে ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে আবার তেল উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে, যাতে গ্রীষ্মে চাহিদা বাড়লে সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। এতে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মজুতের তথ্যই তেলের বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। ফলে সামনে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়