
ফরিদপুর জেল গেট থেকে আ.লীগের চেয়ারম্যানকে ফুলের মালা দিলেন এমপি সংবাদ নিয়ে সারাদেশে যখন সমালোচনার ঝড় ওঠে সেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আয়োজিত প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, আমি কোন আ.লীগের নেতাকে ফুল দিয়ে বরণ করতে যাই নাই বরং আমার এলাকার একজন নিবেদিত মানুষ একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান একজন সজ্জন ব্যক্তি, উনি আ.লীগের কোনো পদেও নাই এবং ছিলেন না, অনেকদিন ধরেই উনি আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, ওনার নেতাকর্মী পরিবার পরিজন আমাদের জন্য কাজ করেছেন, সেই জন্যই আমি করেছি এর জন্য আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে বা ভুল হয়ে থাকলে বিচার করবেন।
এমপি বাবুল বলেন, সিদ্দিক চেয়ারম্যান নিজেও বলেছেন ভাঙ্গা উপজেলার আ.লীগের কোনো কমিটিতে তিনি ছিলেন না, থাকেন যদিও, আমরা তো ভাঙ্গায় দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ভাঙা-গড়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছি।
তিনি বলেন, ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন আলগি ও হামিরদিকে নির্বাচনী পুনর্বিন্যাস করার সময় কর্তন করা হয়েছিল, সেই ইউনিয়ন দুটি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বদলীয় আন্দোলন সংগ্রাম করা হয়েছে, সেখানে বিএনপি, জামায়াতসহ অংশগ্রহণ করেছি, সেখানে আ.লীগের লোকজনও থাকতে পারে। আলগি ইউনিয়নের সে একজন স্বনামধন্য চেয়ারম্যান, এখন কী কারণে তাকে আমি জুলাই হত্যাকাণ্ডের আসামি মনে করি, অথচ উনি একজন বরেণ্য মানুষ, আলগি ও হামিরদির বীরোচিত ব্যক্তি, সম্মানী মানুষ।
তিনি আরও বলেন, আমি বলেছি এ আন্দোলনে যারা যারা গ্রেপ্তার হয়েছে প্রত্যেককে আমি প্রয়োজনীয় আইনগত সহযোগিতা করব, এতে যদি আমার অপরাধ হয় করতে রাজি আছি। এবং এটাও বলছি ভাঙ্গার বিষয়ে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ। তারপরে দল মত থাকতে পারে, দল যার যার কাছে তার তার কাছে থাকবে এটা বিষয় না। ভাঙ্গার বিষয়ে যারা কাজ করবে তাদের সঙ্গে আমরা আছি।
এমপি বলেন, ভাঙ্গাকে গড়ে তোলার জন্য আমরা স্বপ্ন দেখেছি, আমরা কাজ করা শুরু করেছি, আমাদেরকে যারা সহযোগিতা করবে তাদের সাথে নিয়েই আমরা কাজ করব এটাই আমাদের দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার। সিদ্দিক চেয়ারম্যানকে নিয়ে যেভাবে নিউজ করা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে উনি একজন কুখ্যাত মানুষ, আ.লীগের একজন ভয়ংকর ক্রিমিনাল, আগস্টের হত্যাকারী এমনভাবে বলা হয়েছে, আমাকে ওনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক, সেই জন্যই বিষয়টি আমি এখানে পরিষ্কার করলাম।
আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আবু জাহেরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা, সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মুন্সী, সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পান্না, যুগ্ম সম্পাদক ফজলে সুবহান শামীমসহ অনেকে।