আহত ফাইজা জানে না, পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই - চলনবিলের সময়

আহত ফাইজা জানে না, পরিবারের কেউ আর বেঁচে নেই

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: February 23, 2026

256

সৌদি আরবের ওমরাহ হজ শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার বাড়িতে এসেছে। তবে সে জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফাইজার কথা হয়। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কাউকে ভিডিও করতে দেয়নি পরিবারের লোকজন।

ফাইজা সাংবাদিকদের বলে, আমার বাবা-মা ও বোনরা বাড়িতে ফিরবে, আমরা একসঙ্গে সবাই ঈদ করব। আমার মতো আমার বাবা-মা ও দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। নতুন জামা পরে আমি বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাব। সঙ্গে আমার দুই বোনও থাকবে। ঈদে আমরা অনেক আনন্দ করব।

জানা যায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার ভোরে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির প্রয়াত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমানের মেজো মেয়ে। আসার পথে ফাইজার কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে।

আরও জানা যায়, ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫ দিন জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে বাড়িতে ফিরেছে।

মামা তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুইবোন মারা গেছে। সে জানে তার বাবা মা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। সবার সঙ্গে সে ঈদ করবে।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ হজ্বে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সি মেয়ে সুবহা আক্তার এবং গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় ফাইজা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।