এআইয়ের পরামর্শে মাকে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 13 hours ago

15

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্মের পরামর্শ নিয়ে নিজের জন্মদাত্রী মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক কিশোর। অভিযুক্ত ট্রিস্টান রবার্ট গত বছরের অক্টোবরে উত্তর ওয়েলসে তার মা অ্যাঞ্জেলা শেলিসকে (৪৫) একটি ভারী স্লেজহ্যামার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী সেই কিশোরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

গত বুধবার (২৫ মার্চ) উত্তর ওয়েলসের মোল্ড ক্রাউন কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, রবার্টকে ন্যূনতম ২২ বছর ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে।

ডিপসিক-এর সহায়তা ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আদালতের শুনানিতে উঠে আসে এক ভয়াবহ তথ্য। রবার্ট এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সাজাতে ডিপসিক নামক একটি এআই সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা নিয়েছিলেন।

তদন্তে দেখা যায়, সে এআই-এর কাছে জানতে চেয়েছিল হত্যাকাণ্ডের জন্য হাতুড়ি না ছুরি, কোনটি বেশি কার্যকর? প্রাথমিক পর্যায়ে এআই উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, রবার্ট নিজেকে একজন অপরাধবিষয়ক লেখক হিসেবে দাবি করলে প্ল্যাটফর্মটি তাকে হাতুড়ির সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়। এমনকি হত্যার পর রক্ত ও দাগ পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কেও সে এআই-এর পরামর্শ নেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ড্রু থমাস জানান, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। রবার্ট প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হামলার প্রস্তুতি নেন এবং হামলার পুরো সাড়ে চার ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ একটি ডিক্টাফোনে রেকর্ড করে রাখেন। রবার্ট অনলাইনে একাধিকবার নারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে পোস্ট করত এবং নিজের মানসিক সমস্যার জন্য তার মাকেই দায়ী করেছিল। রেকর্ডকৃত অডিওতে হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে, যা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আদালত কক্ষে তা বাজানো হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার রাতে প্রথমে বাড়িতে মাকে হামলা করে রটার্ট। রাত প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হামলার চালানোর পর চিকিৎসার কথা বলে মাকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর একটি প্রকৃতি সংরক্ষণাগারের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনি ব্যাগ থেকে স্লেজহ্যামার বের করে মায়ের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মায়ের মরদেহ টেনে নিয়ে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে রাখেন তিনি। পরদিন সকালে পথচারীরা মরদেহটি উদ্ধার করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আদালতের শুনানিতে আরও জানা যায়, অটিজম ও এডিএইচডিতে আক্রান্ত ছেলের জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন শেলিস। হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি এক সমাজকর্মী ও বন্ধুদের জানান, তার ছেলে ছুরি ও হাতুড়ি কিনেছে। নিজের ফোনে তিনি একটি নোটও লিখেছিলেন। তা হলো, কেন? এগুলো সে কেন কিনেছে? সে কি আমাকে বা নিজেকে আঘাত করতে চায়?’

আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বড় ছেলে ইথান রবার্ট বলেন, মা ট্রিস্টানকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন।