রাত গভীর হয়ে আসছে বসফরাসের তীরে। প্রণালির ওপারে টিমটিম করছে আলো। তুপ্রাস স্টেডিয়ামে তখন যা ঘটছিল; তা একটি ম্যাচের নয়, তিন দশকের প্রতীক্ষার সমাপ্তি। দীর্ঘশ্বাসের মুক্তি, একটি ক্লাবের পুনর্জন্মের মুহূর্ত, ভক্তদের হৃদয়ের বেদনার নিরাময়।
অ্যাস্টন ভিলা ৩-০ গোলে জার্মানির ফ্রাইবুর্গকে হারিয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতল। ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর এটি ক্লাবের প্রথম শিরোপা। ১৯৮২ সালে রটারডামে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জেতার পর পুরো ৪৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এই সংখ্যাগুলো শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে হাজারো রাতের না-ঘুমানো, হাজারো স্বপ্নের অপমৃত্যু।
১৯৮২ সালে পিটার উইথের একটি গোল ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। রটারডামে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে অ্যাস্টন ভিলা পৌঁছেছিল ফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে। টনি মর্লি, ডেনিস মর্টিমার, নাইজেল স্পিংক, গ্যারি শ হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। সেই গৌরবের পর থেকে কেটে গেছে চার দশকেরও বেশি সময়।
কিন্তু এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৮৭ এবং ২০১৬ সালে দুবার দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যায় ভিলা। চারটি দেশীয় ফাইনালে পরাজিত হয়। সমর্থকরা বারবার স্বপ্ন দেখেছেন, বারবার ভেঙে পড়েছেন। ‘প্রায় পারলাম’—এই বাক্য যেন ভিলার ভাগ্যলিপিতে খোদাই হয়ে গিয়েছিল। তারপর এলেন উনাই এমেরি।
২০২২ সালের অক্টোবরে অ্যাস্টন ভিলা তখন প্রিমিয়ার লিগের অবনমন এলাকা থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট দূরে। এই ডুবতে থাকা জাহাজের হাল ধরতে এলেন ৫৪ বছর বয়সী স্প্যানিশ ম্যানেজার উনাই এমেরি। প্রথম দেখায় হয়তো কেউ বিশ্বাস করেননি এই মানুষটি ইতিহাস বদলে দেবেন। কিন্তু এমেরি বিশ্বাস করতেন নিজেকে, নিজের দলকে।
মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ভিলা পরিণত হয়েছে ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়নে। এমেরির নেতৃত্বে ভিলা কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল, এফএ কাপের সেমিফাইনাল পেরিয়ে এসেছে। প্রতিবার ব্যর্থতার পরও এই কোচ বলতেন, ‘আমরা পারব।’ এই অদম্য বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত ফল দিল।
ইস্তাম্বুলে জয়ের পর এমেরি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘১৯৮২ সালের পর থেকে ক্লাব ট্রফির পথ হারিয়ে বসেছিল—সমর্থকরা সেটা অনুভব করছিলেন। এই শিরোপা আমাদের সুখ এনে দিয়েছে। কিন্তু আমরা এখানেই থামব না।’ এটি উনাই এমেরির পঞ্চম ইউরোপা লিগ শিরোপা—এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড যা আনচেলত্তি ও মরিনহোর সঙ্গে তাকে এক কাতারে বসিয়ে দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়