ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সেই উত্তেজনা এখন আর নেই। ছয় হাজার কোটি টাকার বহুল আলোচিত ম্যাচেও রোববার দেখা মিলল না তেমন উত্তাপ। বরং ভারতের একপেশে দাপটের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে পাকিস্তান। সূর্যকুমার যাদবদের দেওয়া ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সালমান আগার দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় সর্বনিম্ন ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। কলম্বোর আর প্রেমাসাদা স্টেডিয়ামে বেশ আগেভাগেই শেষ হয়েছে ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ। এর কারণও রয়েছে– পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের আগে তারা ৬ জন স্পিনার দিয়ে ১৮ ওভার বল করিয়েছে। পুরো ম্যাচে পাকিস্তানের কিছু বিব্রতকর রেকর্ড এবং নতুন করে কিছু নজির তৈরি করেছে ভারত। এক নজরে চোখ বুলিয়ে নেন সেসব কীর্তি।২৭
ভারত শুরুতেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারালেও, পাকিস্তানের মোমেন্টাম কেড়ে নিয়েছেন ইশান কিষাণ। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি করেছেন তিনি। যা ভারত-পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথে তৃতীয় দ্রুততম। এর আগে পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ ২৩ (২০১২, আহমেদাবাদ) এবং ভারতের অভিষেক ২৪ বলে (২০২৫, দুবাই) হাফসেঞ্চুরি করেন।
৭৭
ইশান শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৭ রান করেছেন। যা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। এই তালিকায় অপরাজিত ৮২ রান করে শীর্ষে আছেন বিরাট কোহলি। এরপর যথাক্রমে অবস্থান মোহাম্মদ রিজওয়ান (৭৯), কোহলি (৭৮), ইশান (৭৭) ও গৌতম গম্ভীরের (৭৫)।
৪২
পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল ভারতীয় ওপেনার ইশান পাওয়ার প্লেতেই ৪২ রান তোলেন। যা দুটি দেশের মুখোমুখি টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে’র সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। এর আগে ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে শুভমান গিল ৩৫ রান করেছিলেন।
১৭৫
ভারত-পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টিতে এতদিন সর্বোচ্চ দলীয় রান ছিল ১৬০। ২০২২ সালে করা সেই রান ছাড়িয়ে ইশান-সূর্যরা রেকর্ড ১৭৫ রান করেছেন গতকাল।
৬/১১
পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ভারতের বিপক্ষে ৬ জন স্পিনার ব্যবহার করেছে। তারা মোট ১৮ ওভার করেছেন, যা বিশ্বকাপ ম্যাচে কোনো দলের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালে একই ভেন্যু কলম্বোতেই পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সমান ১৮ ওভার করিয়েছে স্পিনারদের মাধ্যমে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট এবং পূর্ণ সদস্য দেশের হিসাবে স্পিনারদের সমান ১৮ ওভারের কীর্তি আছে জিম্বাবুয়েরও।
ভারত ও পাকিস্তান সবমিলিয়ে ১১ জন স্পিনার ব্যবহার করেছে, যা পুরুষদের টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ। পাকিস্তানের ৬ এবং ভারতের ৫ স্পিনার বল করেছেন।
১১৪/৬১
মাত্র ১১৪ রানে গুটিংয়ে যাওয়ায় ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের হিসাবে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। ২০১৪ আসরে তারা সর্বোচ্চ ৮৪ রানে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। আর তাদের করা ১১৪ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১৪ আসরে ৮২ এবং ২০২৪ বিশ্বকাপে ১১৩ রানে অলআউট হওয়ার নজির আছে পাকিস্তানের।
৮–১
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল এখন পর্যন্ত ৯ বার মুখোমুখি হয়ে ৮টিতেই জিতেছে ভারত। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে ৬টির বেশি জয় নেই আর কারো–ই। এ ছাড়া এ নিয়ে ভারত টানা ৬ ম্যাচে পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টিতে হারাল।
১৬
২০২৩ সালের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিলিয়ে আইসিসি সীমিত সংস্করণের ইভেন্টে টানা ১৬ ম্যাচ জিতল ভারত। যা পুরুষ দলের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। ২০০৬ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল টানা ১৫ ম্যাচ। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হিসাবে টানা ১১ জয় ভারতের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়