এক পরিবারে তিন প্রার্থী–তিন অবস্থান, উত্তপ্ত পাবনা-৩

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 2 days ago

14

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া–ফরিদপুর) আসনে একই পরিবারের তিন ভাই–বোন তিন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে চলে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তারা হলেন—চাটমোহর উপজেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা হাজী আক্কাছ আলী মাস্টারের বড় ছেলে আলহাজ মো. হাসানুল ইসলাম রাজা, তৃতীয় পুত্র মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা ও বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও সমাজসেবক আলহাজ মো. হাসানুল ইসলাম রাজা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে প্রথম থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেন। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি হাট–বাজার, মাঠ–গ্রামজুড়ে প্রচারণা চালান। একপর্যায়ে স্থানীয় প্রার্থী দাবি আন্দোলনে যুক্ত হন এবং তার বক্তব্য সর্বত্র মাইকে প্রচারিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহীনকে মনোনয়ন দিলে রাজা নির্দলীয় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আন্দোলন–সংগ্রামে অংশ নিয়ে তিনি একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন, ভোগ করেছেন কারাবাসও। মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল তুহীনকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনিও স্থানীয় প্রার্থী দাবিতে মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
এদিকে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ৯০–এর দশক থেকে ঢাকায় ছাত্রদল ও পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি একাধিক মামলায় কারাবন্দী হন। চাটমোহরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তিনি এমপি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দল তুহীনকে মনোনয়ন দিলে রুমা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে জোরালোভাবে মাঠে নেমেছেন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের তিন ভিন্ন অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
পাবনা-৩ আসনে এই পরিবার ছাড়াও সাবেক দুইবারের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ কে এম আনোয়ারুল ইসলামও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দল তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনিও হাসাদুল ইসলাম হীরার সঙ্গে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে আন্দোলন করছেন। সাম্প্রতিক মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—দল প্রার্থী না বদলালে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও মাঠে নামতে পারেন।
নির্বাচন অফিস সূত্র অনুযায়ী, পাবনা-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন।
চাটমোহর উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ জন (পুরুষ ১,২৮,৬৪৬; নারী ১,২৮,১৯৫)।
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৭৭৮ জন (পুরুষ ৫৪,২৬২; নারী ৫৪,৫১৩)।
ফরিদপুর উপজেলায় ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৪৩ জন (পুরুষ ৫৮,১৮৩; নারী ৫৮,১৫৬)। – (অক্টোবর/২৫ পর্যন্ত)
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তি বা স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করলে পুরো সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক মো. আলী আছগর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং মাঠের বাতাস ভিন্নদিকে বইতে পারে।