কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় যখন কুমিল্লা নগরীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য, ঠিক তখনই শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্বার বাংলাদেশ।
গভীর রাতে নগরীর ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন অলিগলিতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। হাতে হাতে কম্বল পেয়ে শীতার্ত মানুষদের চোখেমুখে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখা যায়।
একাধিক উপকারভোগী জানান, তীব্র শীতে রাতে ঘুমানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।
এদিকে শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে থাকা দরিদ্র ও এতিম মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করে দুর্বার বাংলাদেশ। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হলে তাদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতা উল্লাহ বলেন, রাতের শীত কতটা কষ্টদায়ক তা খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষরাই সবচেয়ে ভালো বোঝে। এই কম্বল বিতরণ শুধু শীত নিবারণের উদ্যোগ নয়। এটি মানবিক সহমর্মিতার প্রতীক। সমাজের প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই একটি মানবিক ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।
সংগঠনের সভাপতি মঈন নাসের খাঁন রাফি বলেন, শীতের রাতটাই সবচেয়ে কঠিন সময়। অসহায় মানুষ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতেই গভীর রাতে মাঠে নামা হয়েছে। একটি কম্বল শীতার্ত মানুষের জন্য বড় অবলম্বন। শীতকালজুড়ে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান রাকিবুল আলম রিফাত বলেন, এই শীতে যেন কেউ কষ্টে না থাকে সেই চিন্তা থেকেই ভলেন্টিয়াররা কাজ করছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর কাঁপা শরীর আমাদের নাড়া দিয়েছে। মানুষের পাশে থাকাই দুর্বার বাংলাদেশের অঙ্গীকার।
মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্বার বাংলাদেশ আবারও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়