কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 8 hours ago

28

তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি সাতক্ষীরা জেলা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, এদিন রাত ৩টার দিকে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল লতিফ। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুর রহমান জানান, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে বুকে ব্যথাজনিত সমস্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালে রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সাবেক এই পিপি ও সাতক্ষীরা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির সুপারিশে তিনি জেলা জজ আদালতের পিপি হিসেবে নিয়োগ পান। ওই সময় তার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের লাগাতার কর্মসূচিও চলেছিল।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে আদালতপাড়া নিয়ন্ত্রণ, ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হন। তবে তার মৃত্যুতে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা করা হয়। এছাড়া তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা হয়। মামলা দায়েরের পর তারা খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন।

নিহতের মেয়ে শাম্মি জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে পুলিশ তার বাবা আব্দুল লতিফ ও ভাই রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকেই তিনি তিনটি হত্যা মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।