কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ২০ গ্রামের মানুষ

: কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 3 hours ago

4

উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে। এতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। পানি বৃদ্ধির কারণে রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় বীজতলা, পাট ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ২০৪ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পানিতে দুধকুমার নদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। যথাসময়ে সংস্কার কাজ না হওয়ায় রোববার বিকেলে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকেই নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রামসহ নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, মিয়াপাড়া ও মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ফলে ইউনিয়নের ৪,৫,৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি নিচু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি মেরামত কার্যক্রম শুরু করতে তারা রওনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, উজানের ঢলে প্লাবিত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে দুই লাখ টাকা এবং এক হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য এক হাজার করে জিও ব্যাগ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে, নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।