কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতকে জড়িয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন এবং সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সম্প্রতি দৈনিক সমকালে ‘প্রথম আঘাত করে জামায়াত কর্মী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। তারা দাবি করেন, ফিলিপনগর এলাকায় সংঘটিত ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয় এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।
তারা আরও উল্লেখ করেন, সাবেক কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য খাজা আহম্মেদ (৩৬)-কে প্রধান আসামি এবং রাজিব মিস্ত্রি (৩২)-কে দ্বিতীয় আসামি করে যে মামলা করা হয়েছে, তা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮) এবং একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সিহাব (সাফি) (৪৫) এর নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংঘটিত; এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ঘটনা নয়। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
জামায়াত নেতারা জোর দিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত নয়।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রত্যাহার ও সংশোধনের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারা আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
মামলার বিষয়ে খাজা আহম্মেদ অভিযোগে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন আইনি সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকের উদ্যোগ ছিল। তবে ফেসবুকে মিছিলের খবর পেয়ে তিনি পীরের ভাইকে সতর্ক করেন এবং পরে হামলার তথ্য পান। তিনি দাবি করেন, মরদেহ হস্তান্তর পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে আসামি করার কারণ তিনি জানেন না।
দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বেলাল উদ্দীন বলেন, পীর হত্যার ঘটনাটি এলাকাবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোক থাকতে পারে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়