
বগুড়ায় কর্মরত কনস্টেবল মানিকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি নাকি মন্তব্য করেছেন— “যাদের ক্যামেরা নেই তারা সাংবাদিক নন” এবং “৯৫ শতাংশ সাংবাদিকের ক্যামেরা কেনার সামর্থ্য নেই।” এমন বক্তব্যকে সাংবাদিক সমাজের প্রতি অবমাননাকর ও কটাক্ষমূলক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে অনেক সংবাদকর্মী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ, তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরনও বদলেছে। তাই শুধুমাত্র ক্যামেরা না থাকাকে সাংবাদিকতার অযোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবে দেখানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অপমানজনক।
এদিকে, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম বগুড়ার সাংগঠনিক সম্পাদক, এশিয়ান টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ও উত্তরাঞ্চলের ব্যুরো প্রধান, পাশাপাশি গ্লোবাল টিভির ব্যুরো প্রধানকে ঘিরেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন— এমন বক্তব্যের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? কেন সাংবাদিক সমাজকে হেয় করে এমন মন্তব্য করা হলো?
ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা আরও বলেন, “দেশের অধিকাংশ প্রকৃত সাংবাদিক নিজেদের যোগ্যতা, পরিচয়পত্র ও পেশাগত দায়িত্বের মাধ্যমে পরিচিত। ক্যামেরা থাকলেই কেউ বড় সাংবাদিক হয়ে যান না, আবার ক্যামেরা না থাকলেই কেউ সাংবাদিক নন— এমন ধারণা সম্পূর্ণ হাস্যকর।”
তারা জানান, ৯৫ শতাংশ সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইতে শিগগিরই প্রকৃত সাংবাদিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অরিজিনাল ডকুমেন্টস নিয়ে তার সামনে উপস্থিত হবেন। এরপরও যদি তিনি নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং দুঃখ প্রকাশ না করেন, তাহলে সাংবাদিক সংগঠনগুলো একত্র হয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবে।
সাংবাদিক সমাজের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো সরকারি কর্মচারীর এমন বিদ্রূপাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা অনভিপ্রেত। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।