বিগত ১৫ বছরে সারাদেশে ক্রসফায়ার ও মামলার তালিকা করতে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যায়ভাবে যারা ক্রসফায়ারে সঙ্গে জড়িত ছিলো তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামীলীগের আমলে কমন ডিজাইনে ক্রসফায়ারের মতো শত শত অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। যারাই তৎকালীন সরকারের মতের বিরুদ্ধে গিয়েছে কিংবা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, পুলিশকে ব্যবহার করে বা নিজেরা সহযোগী হয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ক্রসফায়ার দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘সেসময় একই রকম অসংখ্য গল্প আমাদের সামনে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচাররের ক্ষেত্রে সিস্টেম্যাটিক, ওয়াইড স্প্রেড ও টার্গেট হত্যাকাণ্ডের আওতায়। এসব অপরাধের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। আমি ট্রাইব্যুনালে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছি, সারাদেশে কতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার একটা পরিসংখ্যান নিচ্ছি। সবগুলো মামলার কপি আমরা সংগ্রহ করছি। যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করব ।’
‘একটি কমিটি গঠন করে দিচ্ছি, তারা যাচাই-বাছাই করে যে মামলাগুলো ট্রাইবুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেগুলোর বিচারের ব্যবস্থা করবো।’
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৫ আগস্টের পর এসব ঘটনায় অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০০-৫০০ জন আসামি হয়। এমন পাঁচ-সাতশ মামলার কপি ইতোমধ্যে প্রসিকিউশন অফিসে জমা হয়েছে। একটা টিম করে এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করব। যাতে কোনো অপরাধী ছাড়া না পেয়ে যায় এবং কোনো নির্দোষ মানুষ আর সাফার না করে আমরা তা নিশ্চিত করব।পাশাপাশি কেউ যদি মামলা বাণিজ্য করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে তাদেরও আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে, এক-এগারোর সময় যে সব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, প্রসিকিউশন সব ঘটনার তদন্ত করবে এবং অপরাধীদের ট্রাইবুনালের বিচারের সম্মুখীন করা হবে বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
অন্যদিকে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
হাসানাত আবদুল্লাহ হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাঁদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়