টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থায় নতুন মোড়। সময়ের চাপ, আইসিসির কড়া বার্তা আর সরকারের অনড় অবস্থানের মধ্যে এবার সরাসরি ক্রিকেটারদের মতামত জানতে বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে।
ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন আসিফ নজরুল। তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনীহা জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বাংলাদেশের সেই যুক্তি মানতে নারাজ। আইসিসির বক্তব্য, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়।
একাধিক দফা আলোচনা শেষে ২১ জানুয়ারি আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—২২ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে জানাতে হবে তারা ভারতে খেলবে কি না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে হাঁটবে তারা।
এই বার্তা পাওয়ার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, বৃহস্পতিবার বিকেলের আগেই বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আসিফ নজরুল। বৈঠকে ক্রিকেটারদের অবস্থান ও মতামত শোনা হবে, যা পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রিকেটাররা যদি ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এ প্রশ্ন এখন সবচেয়ে আলোচিত। যদিও আমিনুল ইসলাম বুলবুল ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলানোর দাবিতে বিসিবি এখনও অনড়।
তবে ‘মিরাকল’-এর আশাও পুরোপুরি ছাড়ছেন না বিসিবি সভাপতি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে সবাই চায়, কিন্তু সরকারকে চাপ দিতে চান না তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জায়গা থেকে শ্রীলঙ্কার অবস্থানেই তিনি এখনো অটল।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই বৈঠকই ঠিক করে দিতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ—খেলবে, না কি ইতিহাসের অন্যতম বড় টুর্নামেন্ট মিস করবে টাইগাররা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়