পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা ও বাইলাবুনিয়া গ্রামের খইয়ার খালের কৃষি জমিতে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বিনষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ৫০০ একর জমির মুগডাল। তাই জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রান পেতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় কৃষকরা৷ শনিবার বেলা এগারোটায় ভূইয়াকান্দা গ্রামের অটোস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন মৌডুবী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাদ ভূইয়া, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রাকিবুল ইসলাম সাত্তার, রুহুল আমিন ও বনিআমিন ও ইলিয়াস সহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পানি নিষ্কাশনের স্লুইজ না থাকায় প্রায় ৩শত কৃষকের প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের মুগডাল পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু এবছরই নয় এর আগেও বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ফসল চাষ করে কৃষকরা কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনেছেন। তাই স্লুইজ নির্মানের পাশাপাশি কৃষকরা সহায়তার দাবি জানিয়ছেন।
ভূইয়া কান্দা এলাকার কৃষক পরামিন পন্ডিত বলেন, আমি একজন কৃষক অন্যের জমিতে ফসল ফলাই, যে ফসল পাই সেখান থেকে জমির মালিক কে কিছু অংশ দিতে হয়। এবার হঠাৎ অকাল বৃষ্টিতে আমার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমার তো আর অন্য কোন ইনকাম নাই এখন আমি কি ভাবে বাঁচবো।
কৃষক রাকিবুল ইসলাম সত্তার বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে মুগডাল দিয়েছি। ফলন খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু এখন সব ডাল পাকার পরও পচে গিয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে আমাদের প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। অপর কৃষক বনি আমিন বলেন, আমাদের এখানের কৃষকদের প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি নিজে ২০ বিঘা জমিতে মুগ ডাল দিয়েছিলাম। কিন্তু।সব শেষ হয়ে গেলো। এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নিবো সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি। আমাদের এখানে অতিদ্রুত স্লুইজ নির্মানের দাবি জানাচ্ছি।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ওই এলাকায় স্লুইজ নির্মানের লক্ষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়