গণতন্ত্র রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামে আপসহীন নেতৃত্বের নাম খালেদা জিয়া

: শাহরিয়া (স্টাফ রিপোর্টার) কুমিল্লা
প্রকাশ: 2 weeks ago

48

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপসহীন শব্দটি আজ একটি ব্যক্তিত্বের পরিচয়। সেই নাম বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কেবল একটি দলের নেত্রী নন। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক।


‎১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশ ও বিএনপি গভীর সংকটে পড়ে। সেই সময় একজন অন্তর্মুখী গৃহবধূ রাজপথে নামেন। সেনাপ্রধানের স্ত্রী বা ফার্স্ট লেডির পরিচয় তাঁকে থামাতে পারেনি। তিনি শোকের ঘর ছেড়ে সংগ্রামের পথ বেছে নেন।

‎সাদা শাড়ি পরেই তিনি ঘরে বসে থাকেননি। স্বৈরশাসন ও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজপথে দাঁড়ান। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান। সাধারণ মানুষ তাঁকে কাছে টেনে নেয়।

‎সরলতা ছিল তাঁর রাজনৈতিক শক্তি
‎খালেদা জিয়ার রাজনীতির ভিত্তি ছিল সরলতা ও দৃঢ়তা। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই নারী সহজ ভাষায় কথা বলতেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তা প্রকাশ করতেন। সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন।

‎ধর্মীয় পরিচয়কে তিনি কখনো রাজনৈতিক অস্ত্র বানাননি। পোশাক বা আচরণ নিয়ে বিতর্ক হয়নি। নিজের স্বকীয়তা দিয়েই তিনি সমাজের নানা স্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেন।

‎স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নয় বছরের লড়াই
‎১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা নয় বছর আন্দোলন করেন। বহুবার গৃহবন্দী হন। ক্ষমতার বিনিময়ে কোনো সমঝোতা করেননি।

‎১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। এই বিজয়ের পেছনে তাঁর অনড় অবস্থান ছিল মূল শক্তি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও তাঁর দৃঢ়তার সামনে পিছু হটে।

‎ওয়ান ইলেভেনে অনমনীয় অবস্থান
‎২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি আবার কঠিন পরীক্ষায় পড়েন। অনেক নেতা দেশ ছাড়েন। কেউ কেউ আপস করেন। খালেদা জিয়া তা করেননি।

‎দেশত্যাগের চাপ উপেক্ষা করে তিনি বলেন, বিদেশে তাঁর কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশের মানুষই তাঁর আশ্রয়। কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক ও পারিবারিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি মাথা নত করেননি।

‎দীর্ঘ শাসনামলে নিঃসঙ্গ সংগ্রাম
‎২০০৯ সালের পর তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়। কারাগার ও হাসপাতালের কেবিনে তাঁকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও চিকিৎসার বিনিময়ে কোনো রাজনৈতিক শর্ত মানেননি।

‎তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে দেশ বড়। এই অবস্থানই তাঁকে মানুষের চোখে আলাদা করে তোলে।

‎২০২৪ এবং সম্প্রীতির আহ্বান
‎২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলায়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর মুক্ত হয়ে তিনি প্রতিশোধ নয়, সম্প্রীতির কথা বলেন। দীর্ঘ বন্দিত্ব তাঁর শরীর দুর্বল করলেও মনোবল অটুট থাকে।

‎খালেদা জিয়া আজ সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব ছিল তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যখনই গণতন্ত্র সংকটে পড়বে, তাঁর আপসহীন জীবন নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। তিনি প্রমাণ করেছেন, মাথা নত না করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।