
ফরিদপুরে বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনিতে হান্নান নামে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে চালকের দুই সহযোগী।
শুক্রবার (০১ মে) রাতে জেলার নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালক হান্নানের বাড়ি জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় সাতৈর এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে একটি ট্রাক দ্রুত গতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাকটির অস্বাভাবিক গতি দেখে এলাকাবাসী সেটির গতিরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারসহ তিন জনকে গণপিটুনি দেয়, এতে তারা গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের দাবি, ট্রাকটি রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পথচারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। এতে ২০ পথচারী আহত হয়েছেন। পরে বিলনালিয়া নতুন হাটখোলা এলাকার মুন্সী স্টোরে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি থেমে যায়।
এ সময় ট্রাকের চালক হান্নান (৪৫), হেলপার নাঈম (২২) ও আল-আমিনকে (২৫) স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক চালক হান্নানকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই স্থানীয়রা চালকসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করি। ট্রাকটি রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, চালকসহ তিনজনকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে চালক মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি। অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।