
কে শক্তিশালী ও কার্যকর রাখতে চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলা হয়—আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যম। এই চারটি স্তম্ভের ওপরই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নির্ভর করে। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে, নির্বাহী বিভাগ সেই আইন বাস্তবায়ন করে এবং বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। অন্যদিকে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে এবং জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেয়। এ কারণেই গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের “চতুর্থ স্তম্ভ” বলা হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বহু সাংবাদিককে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। কখনও হামলা, কখনও মামলা, কখনও আবার হুমকি ও সামাজিক চাপ—এসবই অনেক সময় সাংবাদিকতার স্বাভাবিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে অনেক সাংবাদিককে হয়রানির শিকার হতে হয়।
গণতন্ত্রকে যদি একটি ঘরের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে তার চারটি শক্ত খুঁটির ওপরই সেই ঘর দাঁড়িয়ে থাকে। একটি খুঁটি দুর্বল হয়ে গেলে পুরো ঘরই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঠিক তেমনি গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে বা সাংবাদিকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে গণতন্ত্রের কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ স্বাধীন গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাংবাদিকরা কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না; তারা সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করেন। মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি পৌঁছে যায়। ফলে সমস্যার সমাধানের পথও তৈরি হয়।
তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ। আর শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সুসংহত ও টেকসই করতে।
কলাম লেখক- লুৎফর রহমান হীরা
সংবাদিক ও কলামিস্ট