
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই এবার সঞ্চালন চার্জ বা হুইলিং চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)। সংস্থাটি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ বর্তমান ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করার আবেদন জানিয়েছে।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে ১৯ পয়সা বা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চালন চার্জ বাড়তে পারে।
পিজিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রিড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে।
এদিকে একই গণশুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে, যা বর্তমান দামের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বেশি।
পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম শুনানিতে জানান, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তার মতে, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় না করলে পুরো খাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।
তবে বিদ্যুতের দাম ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের নেতারা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও অপচয়ের দায় সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। একইসঙ্গে শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিইআরসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদনের ওপর পৃথক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।