
ঘন কুয়াশা ও টানা তীব্র শীতের প্রভাবে পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে বীজতলার চারা পচে যাচ্ছে এবং অগ্রভাগ নষ্ট হয়ে পড়ছে। চারা রক্ষায় কৃষকেরা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলেও ক্ষতির হাত থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হেক্টর জমির বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে আসন্ন বোরো মৌসুমে চারা সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই জানান, বর্তমানে তাদের কৃষি জমিতে সরিষার আবাদ চলছে। আগামী মাসে সরিষা ঘরে তোলার পর বোরো ধানের চারা রোপণ করার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে চারা পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ছাইকোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিবছরই বোরো মৌসুমে চারার সংকটের কারণে অনেক জমি পতিত থাকে। তিনি এ বছর চার বিঘা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। তবে কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে কাঙ্ক্ষিত মানের চারা পাওয়া যাবে কিনা—এ নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
হান্ডিয়াল ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, চলনবিলাঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল ধান। কিন্তু কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বীজতলা পচে যায় এবং চারার অগ্রভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব দুর্বল চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিসার কুন্তলা ঘোষ বলেন, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে মোট ৪৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি কমাতে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং রাতের বেলায় বীজতলায় পানি ধরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।