চাটমোহরে নলকূপ দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, মৎস্যজীবীপাড়ার ৪ শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধের অভিযোগ

: চাটমোহর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: 9 hours ago

6

চাটমোহর উপজেলার বিলকুড়ালিয়া এলাকায় একটি অগভীর নলকূপ দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে বিলপাড়ের ধরইল মৎস্যজীবীপাড়ার চার শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি ও হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ধরইল মৎস্যজীবীপাড়ার বাসিন্দারা কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেতা আনোয়ার হোসেন, মৎস্যজীবী নেতা রায়হান আলী, চঞ্চল হোসেন, সিমা খাতুন ও ইয়াসমিন খাতুনসহ অনেকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ধরইল গ্রামের চিহ্নিত চাঁদাবাজ রেজাউল, মজি ও নূর ইসলাম গং বিলকুড়ালিয়ায় ভূমিহীনদের জমিতে স্থাপিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ওম্বর আলীর একটি অগভীর নলকূপ জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাধা দিলে ওম্বর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইউপি সদস্য ওম্বর আলী তার আহত ছেলেকে দেখতে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রেজাউল-মজি গংয়ের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ধরইল মৎস্যজীবীপাড়ার চার শতাধিক পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। তারা জানান, ভয়ের কারণে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
মৎস্যজীবীপাড়ার বাসিন্দা সিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা ও আমাদের সন্তানরা কেউ বাইরে যেতে পারছি না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য নূর ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানা-র ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নয়ন কুমার সরকার জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মৎস্যজীবীপাড়ার বাসিন্দারা অবরুদ্ধ—এমন কোনো তথ্য থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।