
দেশের চামড়া শিল্পকে সম্ভাবনাময় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের সংকট আড়াই মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে খাতটির দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে আবির্ভূত হবে। চামড়া খাতের দুর্বলতাগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার জিমনেসিয়াম হলে বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত কয়েক বছর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলের হতাশা প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দীর্ঘদিন চামড়ার সঠিক মূল্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভরশীল। সেই হতাশা থেকেই অনেকে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এই খাতকে তার প্রকৃত সম্ভাবনায় নিয়ে যেতে সময় প্রয়োজন। চামড়া শিল্পকে সত্যিকার অর্থে সম্ভাবনাময় খাতে রূপ দিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সময় দিলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস। এত অল্প সময়ে পুরো খাতের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সরকার চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে এবং সংকট নিরসনে কাজ শুরু করেছে।’
চামড়াকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আল্লাহর দেওয়া সম্পদ। সম্পদে অপ্রতুল একটি দেশে কোনো সম্পদ নষ্ট করা মানে বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া। এই সাময়িক সময়ে এক পিস চামড়াও যেন নষ্ট না হয়। যার যার জায়গা থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আলিমুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক, মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। এসময় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে উৎসাহিত করেন।
পরে মন্ত্রী সিলেট জেলা পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়