বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া রহিমাবাদ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন আর খেলার জায়গা নয়, বরং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় সেটি এক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তিন বছর ধরে জমে থাকা পানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জলাবদ্ধ মাঠের পানিতে কাগজের তৈরি নৌকা ভাসিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অন্তত সাত মাস বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পানির নিচে ডুবে থাকে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের পাশের ড্রেনটি অপরিকল্পিত হওয়ার কারণে এবং পরবর্তীতে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজের সময় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি জমে বিদ্যালয়ের মাঠটি এখন স্থায়ী জলাশয়ে রূপ নিয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন জানায়, "মাঠ সবসময় পানির নিচে থাকে। ময়লা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। ভারী বৃষ্টি হলে তো ক্লাসরুমের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে।" একই ক্লাসের সামির যোগ করে, "স্কুলে এসে মাঠে খেলার বা পিটি করার কোনো উপায় নেই। এমন পরিবেশে পড়াশোনা করা কঠিন।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা আক্তার বলেন, "গত বছরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ময়লাযুক্ত পানিতে শিক্ষার্থীদের চলাচল করাটা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিরসনে আমরা আবারও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান বলেন, "বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমি অবগত আছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট ও সমস্যা লাঘবে আমরা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করছি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৬ চলনবিলের সময়