জামিনে বেরিয়ে পীর সেজে কবরস্থানে আস্তানা হত্যা মামলার আসামি বসান মাদক-জুয়ার আসর

: সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: 3 hours ago

11

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী একটি পঞ্চায়েতি নির্জন কবরস্থান দখল করে কথিত পীরের আস্তানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পবিত্র কবরস্থানের ভেতরে পীর পরিচয়ের আড়ালে এক হত্যা মামলার আসামি মাদক ও জুয়ার আসর বসাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে এক অজ্ঞাত পীরের নির্দেশে তিনি ওই কবরস্থানে অবস্থান করছেন। সেখানে জিন সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে তিনি কবরস্থানের ভেতরে ঘন জঙ্গল ও শতবর্ষী একটি বটগাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে দোতলা আকৃতির একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করেছেন।

কবর ও ঘন বাঁশঝাড়ের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে ওই ঝুপড়ি ঘর। গয়াছ মিয়ার মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গয়াছ মিয়া পীরের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পর নিয়মিত সেখানে মদ, গাঁজা সেবন ও জুয়ার আসর বসে বলে দাবি করেন তারা।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, শত বছরের পবিত্র কবরস্থানে মদ-গাঁজার আসর বসানো সম্পূর্ণ হারাম। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, হত্যা মামলার একজন আসামি জামিনে এসে কবরস্থানে আস্তানা গড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মাদকের আখড়া পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে গয়াছ মিয়া বলেন, কারাগারে থাকাকালে আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিটেমাটিও বিক্রি হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি এই কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছি।

এদিকে কবরস্থান রক্ষা, অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।