
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল চ্যানেলে জেলেদের জাল পেতে মাছ ধরার কারণে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে সব জাল অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাল সরানো না হলে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফছার হোসেন চৌধুরী চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, পতেঙ্গা জেলেপাড়া থেকে পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল আলফা থেকে কুতুবদিয়া এবং সি বিচ থেকে ভাসানচর পর্যন্ত বিভিন্ন নৌপথে জেলেরা ‘বিন্দি জাল’ পেতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরছেন। এতে লাইটার জাহাজসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে যাওয়ায় নাবিকদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, নৌযান চলাচলের নির্ধারিত চ্যানেলে জাল ফেলা নিষিদ্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট জেলেরা তা উপেক্ষা করে নিয়মিতভাবে জাল পেতে মাছ ধরছেন। এতে একদিকে যেমন নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
চিঠির বরাতে আরও অভিযোগ করা হয়, জাহাজের প্রপেলারে জাল আটকে গেলে অনেক সময় জেলেরা সংঘবদ্ধ হয়ে নাবিকদের ওপর হামলা চালান। এমনকি পাথর নিক্ষেপ করে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি ভাসানচর এলাকায় দুটি জাহাজের মাস্টার ও সুকানীকে জেলেরা ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় নাবিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে বর্ণনা করা হয়েছে।
জাল অপসারণ ও নৌপথ নিরাপদ রাখতে এর আগেও একাধিকবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। চিঠি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ ও ১৭ আগস্ট এবং ২০২৬ সালের ২০ জুলাই এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক তিনটি চিঠি দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংগঠনটির।
এ অবস্থায় ১৭ আগস্টের মধ্যে উল্লিখিত নৌপথ থেকে সব জাল অপসারণ না করা হলে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নৌযান চলাচল বন্ধের দায় শ্রমিক বা শ্রমিক নেতাদের ওপর বর্তাবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলনবিলের সময়