অনলাইন অ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারক কথিত ‘জিনের বাদশা’কে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ।
এর আগে সোমবার (১) জুন রাতে সলঙ্গা থানাধীন বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে কথিত জিনের বাদশা আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, সোমবার সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মমতাজ বেগম নামে এক নারী আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার থানায় মামলা করেন। মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, ইকো ভোল্ট নামক একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে মধ্যে ডিপোজিট করলে অনেক টাকা লাভ পাওয়া যাবে, এমন লোভনীয় অফার দিয়ে বাদি মমতাজ বেগমের মাধ্যমে ১০০ গ্রাহক সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে বাদির মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আব্দুল হামিদ।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সিইএফ নামক একটি ভুয়া অ্যাপসে টাকা ইনভেস্ট করতে বলে হামিদ। এভাবে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। গত ২ মে বাদি মমতাজ বেগমসহ অন্যান্য গ্রাহকরা তার ইকো ভোল্ট অ্যাপসে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখে অ্যাপসটি সাদা হয়ে যায়। এরপর সিইএফ নামক নতুন অ্যাপসে বেশি বেশি ইনভেস্ট করার জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দেন হামিদ। এভাবে বাদি ও অন্যান্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
নাজরান রউফ বলেন, এসব ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে আসামি হামিদকে গ্রেপ্তারে সদর থানার একাধিক টিম কাজ শুরু করে। আসামিকে অনুসরণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১ জুন) বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১টি ওয়ালটন ট্যাব, একটি স্মার্ট ফোন ও তার প্রতারণার অ্যাপস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার পত্র জব্দ করা হয়।
অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার লোভনীয় অফার দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে আসছিলেন আব্দুল হামিদ। টাকা নেওয়ার পর ওই অ্যাপস ডিজেবল করে দেন। প্রতারিত গ্রাহকরা অ্যাপসে ঢুকতে না পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবার নতুন অ্যাপস দিয়ে ইনভেস্ট করার অফার দেন।
এভাবে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে পুনরায় অ্যাপসগুলো ডিজিবল করে ভয়াবহ প্রতারণা করে যাচ্ছেন তিনি। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা প্রতারণা বুঝতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি Hamkail Moakael নামে আইডি থেকে নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
এভাবে সিরাজগঞ্জের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জিনের বাদশা আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়