‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে টালবাহানা মানবো না : জামায়াত আমির

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 3 hours ago

29

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা আমরা মানবো না।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগামী ২৯ মার্চ সংসদের অধিবেশন বসছে। সংস্কার বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাদের নোটিশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা বলতে চাই— নোটিশের অপেক্ষা না করে অধিবেশন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিন যে, আপনারা জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এরপর সংসদে বসে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমরা খোলা মন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি সংসদের ভেতরেই সংকটের সমাধান হয়, তবে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু যদি সমাধান না হয়, তবে মনে রাখবেন— এই রাজপথ আমাদের অতি পরিচিত। আমরা শুরুতেই রাজপথে যেতে চাই না; আমরা চাই সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হোক মহান জাতীয় সংসদ।

জামায়াত আমির বলেন, আপনারা সংবিধানের এক অংশ মানবেন আর অন্য অংশ মানবেন না— তা হতে পারে না। একই আদেশের ভিত্তিতে দুটি ভোট একই দিনে হলো। অথচ আপনারা গোশত খাচ্ছেন কিন্তু ঝোল খেতে রাজি নন। একই পাত্রে রান্না করা খাবারের এক অংশ হালাল আর অন্য অংশ হারাম বলার কোনো সুযোগ নেই। জনগণকে এতোটা বোকা ভাববেন না, তারা সব বোঝে। অতীতেও অনেক বিষয় আপনারা সহজে মানতে চাননি, কিন্তু পরে ঠিকই মানতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কাঠামোগত পরিবর্তন কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অথচ এখন আপনারা বলছেন জনগণ না বুঝে রায় দিয়েছে। যারা জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করবো না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান (বীর প্রতীক)।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের (এমপি) সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ড. হেলাল উদ্দিন, জসীম উদ্দীন সরকার, মোহাম্মদ কামাল হোসেন (এমপি) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।