
আমানতের টাকা উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রতা ও ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ব্যাংক গ্রাহকরা।
রোববার (৩ মে) সকাল থেকে কয়েকশ’ গ্রাহক বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন এবং কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে খাতুনগঞ্জের আমির মার্কেট এলাকায় গ্রাহকরা জড়ো হয়ে প্রথমে ইউনিয়ন ব্যাংক-এর একটি শাখার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে একে একে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক-এর সামনেও অবস্থান নেন তারা।
এর মধ্যে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায়। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা শাখা ব্যবস্থাপককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তালা খুলে দেয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে তারা তাদের জমাকৃত অর্থ তুলতে পারছেন না। নতুন করে ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতির মাধ্যমে আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বলেন, আমরা আমাদের নিজের টাকা তুলতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে ঘোরানো হচ্ছে। এখন আবার সেই টাকার একটা অংশ কেটে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে এটা আমরা মেনে নেব না।
আরেক গ্রাহক জানান, অসুস্থ পরিবারের সদস্যের চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে এসে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তার অভিযোগ, কাগজে-কলমে লেনদেন স্বাভাবিকের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, লেনদেন সীমাবদ্ধতা বা হেয়ার কাটের বিষয়ে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা কাজ করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাতুনগঞ্জ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে দ্রুত সমাধান না এলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়