ঢাবিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে ‘ভাষার ক্ষুধা’ পথনাটক মঞ্চায়িত

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 13 hours ago

27

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার অধিকার অভিব্যক্তির স্বাধীনতা ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মঞ্চায়িত হয়েছে পথনাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাটকটি মঞ্চায়ন করে ঢাবি নাট্যসংসদ। প্রযোজনাটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড়।

নাটকের শুরুতে কালো পোশাক পরিহিত অভিনেতাদের ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলের আদলে মঞ্চে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’ কবিতার আবৃত্তির তালে-তালে বিভিন্ন নাট্যকৌশলের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়।

নাটকে বায়ান্নর আন্দোলনের ইতিহাসের পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নাটকে বাংলা ভাষার প্রতি সমকালীন প্রজন্মের মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিল্পীরা।

নাটকের শেষে পরিচালক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ভাষাকে ততক্ষণই ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে। ভাষা যখন প্রশ্ন তোলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তখনই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সেখান থেকেই আমাদের নাটকের সূচনা।

নাটকের সহনির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, বাংলা ভাষা কতটা সুন্দর, তা আমরা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। শুধু বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামের কারণেই আজ বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে – এই বোধ যখন আমাদের ভেতরে তৈরি হবে, তখন আর আমরা নিজের ভাষাকে ছোট করে দেখব না।

দর্শকসারি থেকে জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশে নাট্যচর্চায় একটি খরা লক্ষ্য করেছি। সেই প্রেক্ষাপটে একুশকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে এ আয়োজন করেছেন, এটি আগামী দিনের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।