তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য ৩ দিনের রিমান্ডে

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 20 hours ago

7

অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে কুমিল্লা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে ৪টি সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, শুনানির সময় নিহত তনুর বাবা-মা এবং তার ছোট ভাই রুবেল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।