
তরুণ ভোটারদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শুনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। রাজধানীতে এক ‘চায়ের আড্ডা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এমন মনোভাবের কথা জানলেন তিনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মহাখালী ডিওএইচএস খেলার মাঠে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমধর্মী এই ‘চায়ের আড্ডা’। যেখানে উঠে আসে নতুন প্রজন্মের ভাবনার বাংলাদেশ।
এই আড্ডার লক্ষ্য ছিল, তরুণ ভোটার এবং জাতীয় রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরের মধ্যে একটি অর্থপূর্ণ সংলাপ তৈরি করা। আড্ডায় প্রায় ৫৫ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তাদের আতিথেয়তা করেন জাইমা রহমান।
আয়োজকরা জানান, এই চায়ের আড্ডা ছিল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের একটি ইন্টারেক্টিভ যুব সম্পৃক্ততা অনুষ্ঠান।
প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এই আড্ডায় তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানান বিষয়ে মতবিনিময় করেন জাইমা রহমান। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কথা শোনেন এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। এ আড্ডায় মেধা পাচার, বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা, নতুন চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সচ্ছলতা না থাকাসহ নাগরিক সমাজের নানান সমস্যার কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানটি ছিল প্রচলিত সভা বা বক্তৃতামূলক আয়োজনের বাইরে এক ভিন্ন রকমের। এটি আয়োজন করা হয় মেলার আদলে। যেখানে জাইমা রহমান প্রথম পর্বে সবার সঙ্গে বসে কথা বলেন এবং শেষ অংশে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসে বক্তব্য না দিয়ে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলেন।
এ সময় তিনি তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে একসঙ্গে চা, চটপটি, জিলাপি ও ঝালমুড়ি উপভোগ করেন, যা আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও আন্তরিক করে তোলে।
মতবিনিময়ে জাইমা রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর যানজট সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। আড্ডায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেক আইডি নিয়ে কথা বলেন এক তরুণী। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন বুলিংটা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সমাধান সেভাবে বেরিয়ে আসছে না। যারা এটা করছে, তাদের শাস্তি হচ্ছে না। এটা নিয়ে যদি কাজ করা যায়, তাহলে খুব ভালো হতো। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে।
এ সময় সাইবার বুলিং প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দেন জাইমা রহমান। ওই তরুণীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এটার ব্যাপারে এর আগে আমিও কথা বলেছি। সোশ্যাল মিডিয়া অনেক পাওয়ারফুল। কিন্তু এটা যদি ম্যানেজ করা না হয়, তাহলে এমন ঘটনা ঘটে। ধরুন, সাইবার বুলিংয়ের জন্য মেয়েরা-মহিলারা যে তাদের মত প্রকাশ করবে, ভাব-চিন্তার প্রকাশ করবে-ওইটা করার সাহস থাকে না। তবে আমার মনে হয়, এটা করা সম্ভব। যদি ইচ্ছাটা সব দিক থেকে থাকে। আমরা তো জানি না যে, যদি এমন কিছু ঘটে কী করব? রিপোর্টিংয়ের ওই রকম কোনো স্টেপ নেই। যদি থাকেও, মানুষকে সেটা জানতে হবে। যদি স্কুল থেকে শেখানো হয় যে, এইটা হলে এটা এটা করতে হবে। ওটা যদি ঘন ঘন শেখানো হয়, শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকে থাকে। আর ঢুকে থাকবে যে, এই জিনিসগুলো খারাপ। এ ছাড়া আরও যদি লিগ্যাল গাইডেন্স থাকে, ওইটার মাধ্যমেও এটা মোকাবিলা করা যায়।
শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ারও তাগিদ দেন জাইমা রহমান। আড্ডার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, দেশের জন্য তরুণদের কাজ করার আগ্রহ ইতিবাচক। তবে দেশ গড়ার কাজে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে দরকার একটা প্ল্যাটফর্ম।