সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা সদরে সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে শুরু হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী দইমেলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বাহারি আকার আর নানা স্বাদের দইয়ের সমারোহে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
ঐতিহ্যের টানে দইয়ের মেলা
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রায় শত বছর আগে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার বনওয়ারী লাল রায় বাহাদুরের আমলে এই মেলার প্রচলন শুরু হয়। মূলত সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে দইয়ের এই বিশাল বাজারের আয়োজন করা হলেও এখন এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মেলায় যা দেখা যাচ্ছে
মেলা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই উপজেলার বাজার এলাকা ও খেলার মাঠে দইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন শত শত বিক্রেতা। মেলায় আসা দইয়ের মধ্যে রয়েছে:
ক্ষীরসা দই: যা মেলার প্রধান আকর্ষণ।
সাদা দই ও মিষ্টি দই: মাটির হাঁড়ি বা সরায় পরিবেশন করা দই।
বাহারি আকার: ৫ কেজি থেকে শুরু করে বিশালাকার হাঁড়িতে সাজানো দই নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।
উৎসব ও কেনাবেচা
শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আশপাশের জেলাগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় আসছেন। মেলায় দইয়ের পাশাপাশি খৈ, বাতাসা, কদমা এবং মুড়ির মোয়ার দোকানও বসেছে।
বিক্রেতারা জানান, দুধের দাম বৃদ্ধি পেলেও ঐতিহ্যের টানে তারা প্রতি বছরই মেলায় দই নিয়ে আসেন। ক্রেতারাও তাদের পছন্দমতো স্বাদের দই সংগ্রহ করতে পেরে আনন্দিত। এই দইমেলার মাধ্যমেই যেন সরস্বতী পূজার আনন্দ পূর্ণতা পায় তাড়াশবাসীর কাছে।
ভোক্তার মন্তব্য: "আমরা প্রতি বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। এখানকার দইয়ের স্বাদ অনন্য এবং মেলায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে যা সত্যিই দারুণ।"
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়