তাড়াশ পৌরসভায় ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ই-জিপি দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

: চলনবিল প্রতিবেদক, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):
প্রকাশ: 2 months ago

131

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভায় ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ই-জিপি দরপত্র আহ্বানকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে সুকৌশলে দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনা করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত তাড়াশ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা ও পৌরসভার মেয়রদের পদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুকুল হোসেন স্বল্প প্রচারিত একটি পত্রিকায় পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের জন্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তর পাবনা-বগুড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্যাকেজে বিভক্ত এ কাজের দরপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ১৮ সেপ্টেম্বর। তবে অভিযোগ রয়েছে, মোট বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ থাকলেও পৃথক প্যাকেজভিত্তিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, প্যাকেজভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যয়ের তথ্য জানিয়ে ১০ শতাংশ কম দর দেখিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এ নিয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
তাড়াশ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মোহাম্মদ আব্দুল বারিক খন্দকার বলেন, “সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুকুল হোসেন ব্যক্তিস্বার্থে এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন। আমরা এই দরপত্র বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মুকুল হোসেন বলেন, “সব নিয়ম মেনেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
এ বিষয়ে তাড়াশ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ খালিদ হাসান জানান, “দরপত্র সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের অধীনে পরিচালিত হয়। আমার দায়িত্ব মূলত সার্বিক তদারকি করা।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ঠিকাদার মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।