দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে যে পরামর্শ দিল সিপিডি

: চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: 24 hours ago

37

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। সোমবার (৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে ওঠে। জ্বালানি খাতের এমন অস্থিরতার ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও।

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। সরবরাহ সংকটে তেল নিতে এসে পাম্প থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেক মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের। যদিও সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহের কারণে এমনটি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপের বোঝা কমাতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সরকারের প্রতি একগুচ্ছ কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির গবেষকরা এ তথ্য তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ সরকারের রয়েছে বলে মনে করেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে যে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছিল, তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কতটুকু প্রতিফলিত হবে, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি উপাদান (পলিসি ইনস্ট্রুমেন্ট) রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মুনাফার বাইরেও জ্বালানির ওপর দেশে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে।

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বড় সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের স্থায়ী স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুত থাকলেও, এদেশে তা নেই। এ ধরনের রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে চাহিদার চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো। এমন আতঙ্ক বেড়ে গেলে যেকোনো দেশের জন্যই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন, তাই বাজারকে আস্থায় আনা ও নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সরকার বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পট বায়িং করছে। বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ যেন না পড়ে সেদিকে নজর দিতে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রিজার্ভের ওপর খাদ্যনিরাপত্তা ও সার আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে।

বর্তমান সময়ে দেশের ভেতরে-বাইরে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন। এ পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার এখন হওয়া উচিত, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্বব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ লাগবে।