দেশের তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবক বানাতে চায় সরকার: আইসিটি মন্ত্রী - চলনবিলের সময়

দেশের তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবক বানাতে চায় সরকার: আইসিটি মন্ত্রী

চলনবিলের সময় ডেস্ক
প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬

12

বর্তমান সরকার একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে বাংলাদেশের তরুণরা প্রযুক্তির ব্যবহারকারী থেকে প্রযুক্তির উদ্ভাবকে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

শনিবার (০৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের ক্যাম্পাসে রোবোফিউশন ১.০- ন্যাশনাল রোবোটিক ফেস্টিভ্যালে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন দেশের তরুণরা এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সততা, সৃজনশীলতা এবং দেশপ্রেমই আগামীর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আমাদের তরুণরা প্রযুক্তির ব্যবহারকারী থেকে প্রযুক্তির উদ্ভাবকে পরিণত হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আমাদের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উদ্ভাবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। আর সে লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদান বা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সাফল্যের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবন মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেই ভূমিকা আরও শক্তিশালীভাবে পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব আজ প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এক অভূতপূর্ব সময় অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আগামী দিনের অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি নির্ধারণ করছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অংশীদার।’

‘আমাদের সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার জন্য ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহারের মাধ্যমে একটি দক্ষ, যুগোপযোগী মানবসম্পদ গঠনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি অবহেলিত থাকবে না, পিছিয়ে পড়বে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছি, যার সুফল মানুষ ভোগ করছে। তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণে সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) টেকনোলজি, রোবোটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে আমরা বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যেগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও উদ্ভাবন। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার করো না; প্রযুক্তি উদ্ভাবন করো। তোমাদের গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে আসুক নতুন প্রযুক্তি। তোমাদের উদ্ভাবন থেকেই জন্ম নিক নতুন স্টার্টআপ। আমাদের প্রয়োজন এমন তরুণ, যারা শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত হবে না; বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্ত ভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরবে।’

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘সরকার প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে—গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি, ইউনিভার্সিটি একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, এআই ও ইমার্জিং টেকনোলজিস সম্প্রসারণ,সরকারি সেবা সহজীকরণ ও সম্প্রসারণ,ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এগুলোকে স্টার্টআপের মাধ্যমে সফলতা প্রদান। এসব ক্ষেত্রে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।’

মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ছোট ছোট উদ্ভাবন গুলোকে সফল উদ্যোগে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ফান্ড ব্যবহার করে আমরা প্রত্যেকটি সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনকে উদ্যোগে রূপান্তর করে তার সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন-ইকোসিস্টেম নির্মাণে আমরা কাজ করছি। রোবোফিউশনের মতো আয়োজন আমাদের সেই অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড.মো. আবু ইউসুফ, বিশ্ববিদ্যলয়টির সিন্ডিকেট সদস্য এম এ মুবিন খান প্রমুখ।

এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়টি জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, ইউএফটিবি রোবোটিকস ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।