পর্দার ‘সূর্যকন্যা’ বা ‘সীমানা পেরিয়ে’র সেই চনমনে নায়িকা—জয়শ্রী কবির আর নেই। একসময়ের মিস ক্যালকাটা এবং ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রবাসেই তার জীবনাবসান ঘটে, তবে ঢাকায় তার মৃত্যুর খবরটি পৌঁছাতে সময় লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন নিশ্চিত করেছেন যে, অনেকটা নীরবেই চলে গেলেন গুণী এই শিল্পী।
জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনে বসবাস করছিলেন এবং বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বেলায়াত হোসেন মামুন জানান, লন্ডনের স্থানীয় চলচ্চিত্রকর্মীদের মাধ্যমেই তারা এই দুঃসংবাদটি জানতে পারেন। পরে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এক শোকবার্তায় বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিকাশে জয়শ্রী কবিরের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।
১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া জয়শ্রী রায়ের গ্ল্যামার জগতে প্রবেশ ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জয়ের মাধ্যমে। এরপর তিনি কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে আসেন। তবে বাংলাদেশের দর্শকের কাছে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন বুলবুল আহমেদের সঙ্গে জাদুকরী জুটির কারণে। ‘সূর্যকন্যা’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ঢাকায় আসা, এরপর প্রখ্যাত নির্মাতা আলমগীর কবিরের সঙ্গে পরিণয় এবং স্থায়ী হওয়া।
ঢাকাই সিনেমায় বুলবুল আহমেদ ও জয়শ্রী কবির জুটি উপহার দিয়েছে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘মোহনা’, ‘পুরস্কার’, ও ‘রূপালী সৈকতে’র মতো কালজয়ী সব চলচ্চিত্র। মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গেও ‘অসাধারণ’ ছবিতে দেখা গেছে তাকে।
শেষ জীবন ব্যক্তিজীবন খুব একটা মসৃণ ছিল না এই নায়িকার। নির্মাতা আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি ফের কলকাতায় ফিরে গিয়েছিলেন। পরে একমাত্র ছেলে লেনিন সৌরভ কবিরকে নিয়ে পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানেই ছেলের সংসারে কাটছিল তার নিভৃত জীবন। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালেই প্রয়াত হন তার প্রাক্তন স্বামী আলমগীর কবির।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়