
নির্বাচন ঘিরে কোন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তিনি জানান, রাজধানীতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভালো রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা মহানগর এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি, কেন্দ্রের অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নানা কারণে এবাবের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেই ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ধারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আমরা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।নাগরিকদের কাছে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে সবাই সম্মিলিত অবদান রাখি। সেনাবাহিনীর তথ্যমতে ঢাকায় দুটি আসন ঝুঁকিপূর্ণ, ডিএমপির মতে কয়টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা সেভাবে এনালাইসিস করিনি। আমরা এনালাইসিস করেছি, ঢাকা মেট্রোপলিটনে দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে। একটি হলো গুরুত্বপূর্ণ, আরেকটি হলো সাধারণ। ১ হাজার ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। এছাড়া আমরা ৩৭টি ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছি, যেখানে ৭ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন ঘিরে সোয়াত প্রস্তুত রাখাসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। নির্বাচন ঘিরে কি ধরনের নিরাপত্তার থ্রেট রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নেই। পরিবেশ দেখছেন না। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো পরিবেশ চলছে। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নেই, রাস্তাঘাট অবরোধ নেই। খুবই ভালো পরিবেশ। তিন কোটি লোকের শহরে আমরা পুলিশিং করি। যেখানে বেকারত্ব আছে, ভাসমান লোক আছে, নানা ধরনের সমস্যা আছে। এমন একটি শহরের আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ পরিস্থিতি চমৎকার রয়েছে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। একটি নির্বাচন যখন হয়, তখন একটি দল জয়লাভ করে, একটি দল পরাজয় লাভ করে। তখন পরাজিতরা কারচুপির কথা বলে। আমাদের দেশের কালচারই এমন। এখনো বাজারে নানা গুজব রয়েছে। নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ডিএমপি কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সার্বিক যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সেখানে সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আমার কলিগ সবাই আছে। তিন কোটি ঢাকাবাসী এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে। কারও নিরাপত্তাহানি ঘটবে আমরা মনে করি না। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, আমি শতভাগ নিশ্চিত করছি। অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করেছে। এবার কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যে, পুলিশকে রাজনৈতিক দল ব্যবহার করতে পারবে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১৫ মাস আমি ডিএমপির কমিশনার। আপনারা কি দেখেছেন, আমরা রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছি। যদি দেখেন আমরা কোনো দলের পক্ষে কাজ করিনি, তাহলে এটাই প্রমাণ করে আমরা কোনো দলের না। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএমপি কমিশনারের লাঠি হাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছুটির দিনে বাসায় ইনফরমাল ড্রেসে চুল কাটাচ্ছিলাম। যখন শুনতে পেলাম আন্দোলনকারীরা যমুনায় ঢুকে পড়ছে, আমি অন্য কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই চলে এসেছি। গিয়ে দেখি পরিস্থিতি ভয়ানক। নির্বাচনের ৫-৬ দিন আগে সরকারপ্রধানের বাসার সামনে আন্দোলনকারীরা এসে যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে, তাহলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে কি বসে থাকার সুযোগ আছে? ডেইলি স্টার-প্রথম আলোতে যে আক্রমণ হলো গভীর রাতে, ট্রাফিক জ্যামের কারণে আমার অফিসারদের আমি সময়মতো সেখানে পাঠাতে পারিনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটল। তখন সব দায় পুলিশর ওপর এলো। সরকারপ্রধানের বাসভবনে যখন আন্দোলনকারীরা ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখন ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমার বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?