
পটুয়াখালি শহরে দীর্ঘদিনের পুরোনো শত্রুতার জেরে ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে একজন তরুণ টাইলস মিস্ত্রিকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহত যুবক খন্দকার নাহিদ ওরফে সিয়াম (২৫), যিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং খন্দকার নিজামের ছেলে ছিলেন।
ঘটনার বিবরণঘটনাটি ঘটে গত ৩০ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম ধাপে এবং পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেল সোয়া ৫টায় দ্বিতীয় ধাপে। প্রথম ধাপে কলাতলা মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় নাহিদ এবং তার ছোট ভাই খন্দকার ফাহিমের উপর চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি চালিয়ে হামলাকারীরা তাদের আক্রমণ করে, কিন্তু স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসায় উভয় পক্ষ নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়। পরদিন বিকেলে পটুয়াখালী পৌরসভার রুস্তম মৃধা কালভার্টের কাছে ‘হোয়াইট হাউজ’ নামক একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে দ্বিতীয়বার হামলায় নাহিদ পথ আটকে ধরা পড়েন।হামলার নৃশংসতাঅভিযোগ অনুসারে, প্রধান অভিযুক্ত মাহিনের নেতৃত্বে একদল যুবক ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প এবং লোহার রড নিয়ে নাহিদের এলোপাথাড়ি মারধর করে। এক পর্যায়ে মাহিন নিজে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে, যার ফলে নাহিদ গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়, যা মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্মম হামলার ছবি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
আহত নাহিদকে প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তার অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছে।
মামলা ও গ্রেফতারনিহতের মা মোসা. নাসরিন আক্তার (৪৫) পটুয়াখালী সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে এ পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত মাহিন (২৩), নাহিদ (২৩), মো. তুষার (২৩) এবং সাইফুল ইসলাম হিরা (২৩)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সবাই পটুয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তাধীন রয়েছে।