
পাখির প্রতি অসীম মমত্ববোধ ও গভীর ভালোবাসা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের সাধারণ বাসিন্দা আখতারুজ্জামান দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নিজ বাড়ির বাগানকে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফলস্বরূপ, এই বাগান এখন শতাধিক পাখির কলোনিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে টিয়া, দোয়েল, শালিক, বুলবুল, কাকাতুয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নির্ভয়ে বাস করে, ডিম পাড়ে এবং নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলে। এই অসাধারণ উদ্যোগ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর নজরে আসার পর পরই বাড়িটিকে ‘বিহঙ্গ বিলাস’ নামে ঘোষণা করা হয়েছে দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির সংরক্ষিত আবাসস্থল হিসেবে।প্রশাসনের উদ্যোগ ও বিলবোর্ড স্থাপনজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেকের উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘Animal Lovers of Patuakhali (ALP)’-এর সহযোগিতায় ‘দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির কলোনি’ নামে একটি বড়াকার, আকর্ষণীয় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে বাড়ির প্রবেশপথে। বিলবোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংরক্ষিত এলাকা এবং যেকোনো ক্ষতিকর কার্যকলাপের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ইয়াসিন সাদেক বলেন, “এই ধরনের স্থানীয় উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে মাইলফলক। জেলা প্রশাসন এমন আরও অনেক উদ্যোগকে সমর্থন করবে।”আখতারুর গল্প : পাখির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা৫৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান, একজন সাধারণ কৃষক, বলেন, “২০১৬ সাল থেকে আমি বাগানে ফলের গাছ লাগাই, পানির উৎস তৈরি করি এবং কেমিক্যাল ছড়ানো বন্ধ করে প্রাকৃতিক খাবারের ব্যবস্থা করি। ফলে শুধু দেশীয় নয়, শীতকালে আসা পরিযায়ী পাখিরাও এখানে থমকে যায়। এটি আমার পরিবারের মতো। জেলা প্রশাসকের এই স্বীকৃতি আমাকে নতুন উদ্যম দিয়েছে।” তার বাগানে এখন ৫০টিরও বেশি গাছ রয়েছে, যা পাখিদের জন্য আশ্রয় এবং খাবারের প্রচুর উৎস।ভবিষ্যত প্রভাব ও আহ্বানএই ঘোষণা পটুয়াখালী জেলায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ALP-এর সভাপতি বলেন, “এটি একটি মডেল প্রকল্প। আমরা স্কুল-কলেজে এর প্রচার করে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করব।” জেলা প্রশাসক ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ধরনের আরও কয়েকটি স্থান চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। স্থানীয়রা আহ্বান জানিয়েছেন, প্রত্যেক বাড়ির বাগানকে পাখিবান্ধব করে জেলাকে ‘পাখির জেলা’ বানানো যাক।