
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বৈঠকের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা উচিত। আলোচনার সময় পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতেও ইউক্রেন প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি।
এর আগে বহুবার পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তার মতে, ভূখণ্ড সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলোর সমাধান কেবল সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তারা বৈঠক করতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। আমি মনে করি, তারা দেখা করলে সেটি দারুণ হবে। তাদের উচিত বিষয়টির নিষ্পত্তি করা।
একইসঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। আমি সেই সমঝোতার বিষয়গুলো প্রস্তাব করেছি।
তবে কী ধরনের সমঝোতার কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন এখনো জেলেনস্কির চিঠি দেখেননি। তবে জেলেনস্কি চাইলে যে কোনো সময় মস্কোতে আসতে পারেন। যদিও চিঠিতে জেলেনস্কি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি মস্কো সফরের পক্ষে নন।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মস্কো দাবি করে আসছে, শান্তি আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও ওই অঞ্চলের বড় অংশ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুতিন আবারও জেলেনস্কির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে জেলেনস্কির প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার বৈধতা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
তবে ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধকালীন সময়ে নির্বাচন আয়োজন নিষিদ্ধ। জেলেনস্কি এর আগে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে নির্বাচন কিংবা গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পুতিনের অবস্থান হলো, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা তৈরি হওয়ার পরই তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
জেলেনস্কি চিঠিতে বলেন, আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্তে না পৌঁছান যে যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, তাহলে ইউক্রেন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।
তবে পুতিন দাবি করেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং মস্কো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও আগ্রহী।
সূত্র : এএফপি
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়