
অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা মারা গেছেন ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার)। মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী, অভিনেতা যাহের আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার বিকেলে রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তা গ্রহণ করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় আলভীর প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথি ও মা শিউলিসহ পরিবারের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।’
এদিকে ইকরার মৃত্যুর আগেই নেপালে যান আলভী। সেখান থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে পরদিন (রোববার) তার দেশে আসার কথা থাকলেও, তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বলা যায়, অনেকটা আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। দেশে আসছেন কি না, বা এসে থাকলেও কোথায় তিনি সে খবর মিলছিল না। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ সমালোচনার মুখে পরেন এ অভিনেতা। স্ত্রীর মুখটি শেষ বারের মতোও দেখলে এলেন না এ অভিনেতা। এরইমধ্যে গতকাল (রোববার) ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে আজ সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসেন অভিনেতা যাহের আলভী। নিজের ফেসবুক আইডিতে ২৮ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের একটি রেকর্ডেড ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি । সেখানে দর্শক ও শুভাকাঙ্খিদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই এ ভিডিও রেকর্ড করেছেন বলেও জানান। এসময় এ অভিনেতা ১ মার্চ কাঠমুন্ডু টু ঢাকার একটি টিকিটের ছবিও দেখান। তিনি দেশে আসার সকল প্রস্তুতি নিয়েও, পরে আর আসেননি। এর কারণ হিসাবে তিনি সকল দায় দেশের মানুষ ও ইকরার পরিবারের উপর চাপালেন। অভিনেতা ভিডিওতে বলেন, ‘আমি সবকিছু ঠিক করে দেশে যেতে পারলাম না শুধু মাত্র আপনাদের জন্য। আপনারা আমাকে দেশে যেতে দেননি। ইকরার মুখটি শেষ বারের মতো দেখতে দেননি। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে প্রচুর পরিমান হুমকি আসছে, আমি দেশে গেলেই মব সৃষ্টি করে আমাকে মেরে ফেলা হবে। এ অবস্থায় আমি কি করে যাই ? আমার রিজিকের (ছেলে) মা আর বেঁচে নেই, এখন যদিও আমিও মারা যাই তাহলে আমার রিজিকের কি হবে। আপনারা কি চান যে আমিও মরে যাই? যদি পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায় কোনো সমস্যা নেই,আইনীভাবে আমি এটা মোকাবেলা করব। কিন্তু কোন মব সৃষ্টি করে যদি আমাকে মেরে ফেলা হয় তাহলে আমার রিজিকের কি হবে। আমার কাছে এখন আমার ছেলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর অভিনেতা নিজেকেও শেষ করে দিতে পারতেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে শেষ করে ফেলতাম। কিন্তু রিজিকের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনও বেঁচে আছি। রিজিকের জীবন এখন আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেতা বলেন, ‘আপনার অনেকেই বলছেন, যে মানুষটা আমাকে ভালোবেসে মরে গেলো, আমি তাকে দেখতে আসলাম না। দেখেন, ১৬ বছর তার সাথে আমি সংসার করেছি। একটা শত্রুর সঙ্গেও এত বছর একসাথে এক ছাদের নিচে থাকলে মৃত্যুর পর তার মুখ দেখার জন্য ছটফট করতে হয়। সেখানে ইকরাতো আমার বউ ছিল। আমি তার মৃত্যুর পর ট্রমার মধ্যে আছি। আমাকে আপনারা দেশে আসার সুযোগ দেন নাই। ইকরার পরিবার আমাকে আমার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয় নাই। এ দায় তার পরিবারকেই নিতে হবে।
২৮ মিনিটের সেই ভিডিওতে অভিনেতা আরও অনেক কথা বলেন, সেখানে সকল দায় ইকরার পরিবার ও তার দর্শকের উপরই চাপানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সমালোচনাই তাকে দেশে আসতে বাঁধা প্রদান করছে বলেও এসময় জানান এ অভিনেতা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশ্যে আসলেন তিনি। তবে কবে নাগাদ দেশে আসবেন বা আদৌ আসবেন কি না সে বিষয়ে কোনো কিছুই বলেননি। তবে তিনি সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দয়া করে রিজিকের জন্য হলেও আমাকে আপনারা দেশে আসতে দেন।