ফাইনালে ‘ট্রাম্পকার্ড’ নাহিদ রানা

: স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: 1 hour ago

3

সময়টা দারুণ কাটছে নাহিদ রানার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন মাত্র ৩৪ ম্যাচ। এই সময়ের মধ্যেই পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছেন টাইগার পেসার। ৩৪ উইকেট দখল করে আলাদাভাবেই নিজের জাত ছিনিয়েছেন নাহিদ। যদিওবা এর মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাত্র একটি।

তারপরও এবারের পিএসএলে নজর কাড়েন এই টাইগার পেসার। ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ লাখ টাকা) তাকে দলে নেয় পেশাওয়ার জালমি। গত আসরেও জালমির স্কোয়াডে ছিলেন নাহিদ। তবে সে মৌসুমে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি এই তরুণ পেসার।

এবারের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) তাকে ছাড়াই ছয়টি ম্যাচে জয় পায় পেশোয়ার। তবু স্রেফ ফাইনালের জন্যই তাকে ঢাকা থেকে উড়িয়ে নেয় দলটি। নাহিদকে যে পেশোয়ারের খুব দরকার, সেটি পেশোয়ারের কর্মকাণ্ডেই স্পষ্ট। ৪ ম্যাচ খেলে দেশে ফেরার পর নাহিদের আবার পিএসএলে ফেরার কথা ছিল না।

বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলার পর তাকে টি–টোয়েন্টি সিরিজের দলে না রেখে বিশ্রাম দিয়েছিল বিসিবি। কেননা, সামনেই যে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। সেই সিরিজের প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় দিতে তাকে পিএসএল খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলে তখন জানিয়েছিল বোর্ড। পরে বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। আর সেটা অনেকটা পেশোয়ারের অনুরোধেই।

নাহিদ যে পিএসএলের ফাইনালে খেলার জন্য আবার পাকিস্তানে যাবেন, সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পেশোয়ার জালমির চেয়ারম্যান জাভেদ আফ্রিদিই আগে জানিয়েছেন, ‘পিএসএলের ফাইনালে নাহিদকে খেলার অনুমতি দেওয়ায় তামিম (বিসিবির অন্তর্বর্তী সভাপতি তামিম ইকবাল) ভাইকে ধন্যবাদ।

পরে এক বিবৃতিতে নাহিদকে পিএসএল ফাইনাল খেলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবিও। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খেলোয়াড়টির বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

পিএসএলে এবার শুরু থেকেই দাপট দেখায় পেশোয়ার। বাবর আজমের নেতৃত্বধানী পেশোয়ার এবারের টুর্নামেন্টে হেরেছে মাত্র এক ম্যাচ। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলও তারা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে দলটি জিতেছে ৭০ রানের বড় ব্যবধানে। এমন একটা দলের নাহিদকে কেন এত দরকার মনে হলো?

এককথায় বললে, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘নাহিদ-ভীতি’। নাহিদ ৪ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৭টি। তার চেয়ে বেশি উইকেট এই টুর্নামেন্টে নিয়েছেন ২৬ জন। এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও পেশোয়ারের স্পিনার সুফিয়ান মুকিম-২১টি। এরপরও নাহিদই পিএসএলের এই আসরের সবচেয়ে আলোচিত বোলার। এই আলোচনার কারণ উইকেটসংখ্যা নয়, গতি।

এই মুহূর্তে পাকিস্তানে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতির বোলার নেই বললেই চলে। হারিস রউফের গতি কমে গেছে অনেকটা। শাহিন আফ্রিদির গতি কমেছে তো অনেক আগেই। তরুণ কেউই খুব একটা নজর কাড়তে পারছেন না। এই টুর্নামেন্টে বেশির ভাগ ফাস্ট বোলারদের বলের গতিই ঘণ্টায় ১৩৫-৪০ কিলোমিটারের আশপাশে।

সেখানে নাহিদ ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেছেন ঘণ্টায় ১৪৫–১৫০ কিলোমিটার গতিতে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতির বলটাও তিনিই করেছেন। এই বাড়তি গতিই নাহিদকে আলোচনায় এনেছে।

নাহিদ এবারের পিএসএলে গতির সঙ্গে বাড়তি বাউন্সটাও আদায় করেছেন। করাচি কিংসের বিপক্ষে একটি ম্যাচে তো ২০টি ডট বলও দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নাহিদের বাড়তি গতি আর বাড়তি বাউন্স নিয়ে এবারের পিএসএলে একটা ‘ভীতি’র জায়গা তৈরি হয়েছিল। এটাকেই ফাইনালে এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজে লাগাতে চায় পেশোয়ার।

পেশোয়ারের পেস বোলিং লাইনআপও দুর্দান্ত কিছু নয়। প্রথম কোয়ালিফায়ারে দলটির হয়ে খেলা পেসারদের নাম দেখুন—খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ বাসিত, অ্যারন হার্ডি। বাসিত ও হার্ডি অবশ্য ভালো বোলিং করেছেন। তবে ফাইনালে নাহিদের মতো একটা নাম যুক্ত হলে দলটির বোলিং আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

পুরো টুর্নামেন্টে নাহিদ ছাড়া পেশোয়ারের কোনো পেসার তেমন একটা ভালো করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ১০ উইকেট নিয়েছেন তরুণ আলী রাজা। তিনি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৫টি। সর্বশেষ খেলেছেন গত ২৫ এপ্রিল।

পিএসএলে পেশোয়ারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষুধাটাও অনেক দিনের। সেই ২০১৭ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি। এরপর ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২১ সালে রানার্সআপ হয়েছে তারা। সর্বশেষ আসরে বাদ পড়েছিল লিগ পর্বেই। এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে দলটি। আর ফাইনালে আজ সেই স্বপ্নপূরণে সবচেয়ে বড় অস্ত্রটির নামই বাংলাদেশের নাহিদ রানা। নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির পিএসএল ফাইনাল শুরু হবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।