ফাইভ মার্ডারের আগে যা যা করেছিলেন ঘাতক ফোরকান

: গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: 20 hours ago

40

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রকাশিত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক তথ্য।

স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হত্যাকাণ্ডের ধরন ও আলামত দেখে ঘটনাটিকে অত্যন্ত নৃশংস বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত শনিবার (০৯ মে) সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) ও ছেলে রসুল মোল্লা (২৩)।

তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মজিবুর রহমানের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার আগের রাতে ফোরকানকে স্বাভাবিকভাবে এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তিনি দোকান থেকে পোলাওয়ের চাল ও কিশমিশ কিনেছিলেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতের দিকে তিনি ছোট মেয়ে ফারিয়াকে কোলে নিয়ে সড়কে হাঁটাহাঁটি করেন এবং অন্য দুই মেয়েও তার সঙ্গে ছিল।

একজন মুদি দোকানদার জানান, রাতের দিকে ফোরকান তার দোকানে এসে ছোট মেয়েকে নিয়ে চিপস ও কিশমিশ কেনেন। দোকানদারের ভাষায়, তিনি প্রায়ই সন্তানদের নিয়ে আসতেন, তাই এমন ভয়াবহ ঘটনা বিশ্বাস করা কঠিন।

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাতে তাকে বাড়ির আশপাশে হাঁটতে দেখা গেছে। তখন তার কোলে ছোট মেয়ে ছিল এবং সঙ্গে ছিল অন্য সন্তানরা।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানদের এমনভাবে হত্যা করতে পারে—এটি কল্পনাতীত।

ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল হক।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফাইভ মার্ডারের ভিসারার জন্য পেটের বিভিন্ন অংশ কালেকশন করে ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব আদৌ কোনো চেতনানাশক অথবা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল কিনা। তবে সরাসরি ওপেন করে তারা গন্ধ জাতীয় কিছু পায়নি বলে জানান।

ডা. মাজহারুল হক বলেন, পাঁচটি লাশের চারটিকেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং দুই বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার মধ্যে রসুল মোল্লাকে চেতনানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ খাইয়ে অথবা এমনো হতে পারে গভীর ঘুমে থাকাবস্থায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে একটানে শেষ করে ফেলা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে সে কোনো প্রটেক্ট করতে পারেনি। তার গলার সামনে উপরে নিচে বড় দুটি কাটা রয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে শারমিন খানমের বাবা নিহতের স্বামী ফোরকান মোল্লাকে (৪০) প্রধান করে অজ্ঞাত চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ফোরকান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com