
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার কাছাকাছি দাঁড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। দুই নেতার এমন ঘটনায় হতবাক দলটির নেতাকর্মীরা। তবে খবরটি শহরে ছড়িয়ে পড়লে সেটি অনেকের কাছে হাস্যরসেও পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে বগুড়া সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে নির্বাচন অফিসে যান। এ সময় তার সঙ্গে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন অফিসের ভেতরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাশাপাশি দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাহিনের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উপস্থিত অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানতে চাইলে আলী আজগর তালুকদার হেনা বলেন, নির্বাচন অফিসের ভেতরে আমি দাঁড়িয়েছিলাম। সেখানে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। এটা নিয়ে আমার সঙ্গে যা-তা আচরণ করল। সে নাকি আমাকে চেনে না। যাই হোক যেহেতু আমরা সিনিয়র, আমাদেরকেই অনেক কিছু মেনে নিতে হবে। তবে বিষয়টি দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে এ সব ঘটনা পড়ে না।
এ ঘটনার বিষয়ে শেখ তাহা উদ্দিন নাহিনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এটা কাম্য নয়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে দাঁড়ানো নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে এটি সমাধান হয়ে গেছে।
বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন। আগামী ৯ এপ্রিল এই আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে শীর্ষ নেতাদের এই কোন্দল স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার সময় জেলা ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।