দেশব্যাপী পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে বগুড়া জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে বগুড়ায় মোট ৫৪৪ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯৬টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কার্ডপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালেই নিজেদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন।
মঙ্গলবার বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা প্রণয়নের সময় কোনো দল বা মতের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি। যদি তা হতো, তাহলে সরকারি কর্মকর্তারা নয়, বরং রাজনৈতিক দলের লোকজন তালিকা প্রস্তুত করতেন। তালিকা প্রণয়নের কাজ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখতে তিনি নিজেও সরেজমিনে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর একটি সরকার গঠিত হলে সেই সরকার দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করে। সেখানে কোনো ধরনের বিভাজন থাকা উচিত নয়। সমাজের একটি অংশ যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে সমগ্র দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নের পথ এগিয়ে নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান জানান, শাখারিয়া ইউনিয়নের এই ওয়ার্ডে খানা জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এখানে মোট ৮৫৯টি পরিবার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বগুড়ায় ৫৪৪ জনকে তালিকাভুক্ত করা হলেও মঙ্গলবার ৪৯৬টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি কার্ডগুলো কারিগরি ত্রুটির কারণে বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারাও শিগগিরই কার্ড পেয়ে যাবেন।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওয়াজেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উন-নবী সালামসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে পারভীন বেগম নামের এক নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অর্থ তার সংসারের কাজে ব্যয় করবেন এবং এর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ লুৎফর রহমান হীরা
হেড অফিসঃ ১/ জি,আদর্শ ছায়ানীড়, রিংরোড, শ্যামলী, আদাবর ঢাকা - ১২০৭।
স্বত্ব © ২০২৫ চলনবিলের সময়